1. mahadihasaninc@gmail.com : admin :
  2. hossenmuktar26@gmail.com : Muktar hammed : Muktar hammed
হাইকোর্টে কি সরাসরি মামলা করা যায়? - dailybanglarpotro
  • June 12, 2024, 3:49 pm

শিরোনামঃ
রাজশাহী নগরীতে ৪ নারীসহ ৮ ভুয়া সাংবাদিক গ্রেফতার রাজশাহী সিটি প্রেসক্লাবের নয়া কমিটির দায়িত্ব গ্রহন মহানগর ছাত্রলীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়ার উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত প্রকৃতি ও পরিবেশ সুরক্ষায় ‘গ্রিন কোয়ালিশন’ গঠন দুর্গাপুরে আলিপুর মক্কা আল-মদিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার উদ্বোধন চারঘাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব ফখরুল ইসলাম আনারস প্রতীকে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে  পঞ্চগড়ে বঞ্চিত শিশুদের আনন্দ দিতে শিশুস্বর্গের নানা আয়োজন গৌরনদী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীর অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল যমুনা লাইফের সাফল্যের কারিগর কামরুল হাসান খন্দকারের নেতৃত্বের ৫ বছর দুর্গাপুর উপজেলার দুটি কেন্দ্রে সংঘর্ষ; গুরুত্বর আহত ১২

হাইকোর্টে কি সরাসরি মামলা করা যায়?

  • Update Time : Saturday, June 17, 2023
  • 373 Time View

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ হাইকোর্টে কি সরাসরি মামলা করা যায়? বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে তার কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হয়েছে কিংবা কোনো বিষয়ে প্রচলিত আইনে প্রতিকার নেই এমন দুই ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে যে পিটিশন দায়ের করা হয় তাকে রিট বলা হয়। মহামান্য ডিভিশনে রিট মূলত দুটি কারণে করা যেতে পারে।

ক) সংবিধানে বর্ণিত নাগরিকের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে এমন কোন বিষয়ে মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য রিট পিটিশন দায়ের করা যেতে পারে।

খ) প্রচলিত আইনে প্রতিকার নেই এমন কোনো বিষয়ে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি প্রতিকার চেয়ে মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনে রিট পিটিশন দায়ের করতে পারেন। আরও একটি বিষয় পরিষ্কার করে বোঝা দরকার তা হলো কোনো বেসরকারি ব্যক্তির বিরুদ্ধে রিট মামলা দায়ের করা যাবে না। প্রতিপক্ষ হতে হবে রাষ্ট্র কিংবা তার সঙ্গে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী।

# যেহেতু ব্যক্তি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে তাই কোনো প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান যদি আপনার মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করে তাহলে, আপনি রিট মামলা দায়ের করতে পারবেন না। আপনাকে যেতে হবে নিম্ন আদালতের দেওয়ানী আদালতে।

উদাহরণস্বরূপ ধরে নেওয়া যাক, আপনি একটি প্রাইভেট মেডিকেলে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন। আপনি পাঁচ বছর সুনাম ও সততার সঙ্গে কাজ করার পর, ম্যানেজমেন্ট যদি কোনো কারণে আপনার উপর ক্ষিপ্ত হন, তাহলে কোনো প্রকার কারণ প্রদর্শন ছাড়াই আপনাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে পারবেন। সরকারি মেডিকেল হলে রিট কিংবা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার সুযোগ থাকত।

কীভাবে রিট মামলা দায়ের করতে হয়?

ক) এজন্য আপনাকে মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনে নিয়মিত প্র্যাটিস করেন এবং সততা বজায় রাখার চেষ্টা করেন, এমন কোনো বিজ্ঞ আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করতে হবে অর্থাৎ কথা বলতে হবে।

খ) মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনের বিজ্ঞ আইনজীবী আপনার রিটের কারণগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনবেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে রিটের যথাযথ কারণ উল্লেখ করে একটি রিট পিটিশন লিখবেন এবং উক্ত রিট পিটিশনটি মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনে দাখিল করবেন।

গ) এবার রিট পিটিশনের উপর ভিত্তি করে মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশন প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল ইস্যু করবে অথবা রিট খারিজ করে দিতে পারেন। ইহা রুল শুনানি নামেও ব্যাপকভাবে পরিচিত।

ঘ) উক্ত শুনানীতে আদালত বাদী পক্ষের বিজ্ঞ আইনজীবীর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হলে বিবাদীর উপর রুল জারী করবেন অর্থাৎ রুল শুনানীতে যদি আদালত মনে করে বাদী পক্ষের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি রিটের শর্তগুলো পূর্ণ করেছে তবে আদালত উক্ত রিটের জবাব দেওয়ার জন্য বিবাদীকে নির্দেশ দিবে যা রুল জারি নামে পরিচিত।

ঙ) অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টি যদি আদালতের নিকট তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হয় তবে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে এবং একই সঙ্গে রুল জারি করতে পারে। তবে যদি প্রাথমিক শুনানীতে আদালত বাদী পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্যে সন্তুষ্ট না হয় তবে উক্ত রিট আবেদনটি খারিজ করে দেবেন।

চ) এবার বিবাদীর থেকে রুলের জবাব পাওয়ার পর উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে আদালত চূড়ান্ত শুনানী গ্রহণ করবেন।

ছ) উক্ত শুনানীর উপর ভিত্তি করে আদালত সুচিন্তিত একটি নির্দেশনা দেবেন যা অনেকটা রায়ের মতো বলা যায়। আদালতের এই নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে একটি রিট মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। এভাবেই একটি রিটের পুরো প্রক্রিয়া সম্পাদন হয়ে থাকে।

উপরোক্ত আলোচনাটি পুর্নালোচনা করলে বোঝা যায় প্রথমে রিট পিটিশন আদালতে জমা দিতে হয়। উক্ত রিট পিটিশনের উপর ভিত্তি করে রুল শুনানী হয়। এরপর আদালত রুল জারি করে। বিবাদী রুলের জবাব দেওয়ার পরে হয় চূড়ান্ত শুনানী। উক্ত শুনানীর উপর ভিত্তি করে আদালত ডিরেকশন প্রদান করে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি রিট হয়ে থাকে যে বিষয়গুলো নিয়ে। তা সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো-

১) কারো কোনো সরকারি পদে থাকার বৈধতা নিয়ে। আপনি যদি মনে করেন কোনো ব্যক্তি আইনত কোনো সরকারি পদে থাকার যোগ্যতা না থাকা স্বত্বেও তিনি উক্ত পদে আছেন তবে আপনি উক্ত ব্যক্তির পদে থাকার বৈধতা নিয়ে রিট করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের মন্ত্রী পদে থাকার বৈধতার চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করা হয়েছিল।

২) কমিটি গঠনের বৈধতা নিয়ে রিট। আপনি যদি মনে করেন কোনো কমিটি গঠন করা হয়েছে বিধি বহির্ভূতভাবে তবে আপনি উক্ত কমিটির বৈধতা নিয়ে রিট করতে পারবেন মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনে। কিছুদিন আগে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির বৈধতা নিয়ে রিট দায়ের করা হয়েছিল।

৩) নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে রিট। আপনি যদি মনে করেন কোনো সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়াতে দুর্নীতি হয়েছে বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে কাউকে চাকরি দেওয়া হয়েছে তাহলে উক্ত নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করতে পারেন।

৪) সরকারি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিধি বহির্ভূতভাবে কাউকে জমি থেকে উচ্ছেদ করতে চাইলে। মনে করুন আপনি একটি জমিতে দীর্ঘকাল যাবত ভোগ দখল করে আসছেন এখন হঠাৎ ইউএনও আপনাকে উক্ত জমি ছেড়ে দিতে নোটিশ দিয়েছে। আপনি এখন মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে রিট দায়ের করতে পারবেন।

৫) কাউকে সরকারি কোনো পদ থেকে বিধি বহির্ভূতভাবে বহিষ্কার করলে। আপনি দীর্ঘদিন একটি প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত অবস্থায় আছেন। এখন হঠাৎ আপনাকে কোনো যৌক্তিক কারণ না দেখিয়ে চাকরি থেকে বহিষ্কার করেছে এখন আপনি মহামান্য হাইকোর্টে উক্ত বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে রিট করতে পারেন। যদিও আপনি এজন্য এডমিনিস্ট্রেটিব ট্রাইব্যুনালে এখন মামলা করতে পারেন।

৬) বাংলাদেশ সংবিধান পরিপন্থী বা মৌলিক অধিকার পরিপন্থী কোনো আইন হলে রিট দায়ের করতে পারবেন। মনে করুন সরকার এমন একটি আইন বানালো যা সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক তবে উক্ত আইনটি বাতিলের জন্য আপনি মহামান্য হাইকোর্টে রিট করতে পারেন। এছাড়া সরকারের প্রণীত কোনো আইন প্রচলিত অন্য আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলেও উক্ত আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে রিট করা যায়।

৭) সরকারি কোনো বে-আইনি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট করতে পারেন। কয়েকবছর আগে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না নিয়ে তা নিয়ে মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনে রিট দায়ের করা হয়েছিল।

৮) দেশের স্বার্থে বা জনস্বার্থে কোনো কিছু ক্ষতিকর হলে আপনি রিট করতে পারবেন। অর্থাৎ আপনি যদি মনে করেন দেশে এমন কিছু আছে বা ঘটছে যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর, তাহলে আপনি উক্ত ক্ষতিকর বিষয়টি বন্ধের জন্য মহামান্য হাইকোর্টে রিট করতে পারবেন। যেমন ভারতীয় টিভি চ্যানেল স্টার জলসাকে বন্ধ করার জন্য মহামান্য হাইকোর্টে রিট করা হয়েছিল।

৯) আপনার জমি সরকার অধিগ্রহণ করলে উক্ত অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে রিট করতে পারবেন। মনে করুন আপনি একটি জমিতে বসবাস করছেন এখন সরকার উক্ত স্থানে একটি স্টেডিয়াম করতে চাচ্ছেন। এখন আপনি উক্ত অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের করতে পারেন।

১০) সরকারি কোনো সিদ্ধান্তে আপনি সংক্ষুব্ধ হয়ে রিট করতে পারবেন। মনে রাখতে হবে সংবিধান নিজে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগকে একটি ক্ষেত্রে আদি এখতিয়ার দিয়েছে সেটি হলো রিট জারির এখতিয়ার।

আলোচকঃ অ্যাডভোকেট ইয়াছিন আলফাজ, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
সাক্ষাতকারেঃ মোহাম্মদ মেহেদী হাসান।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category